উপসর্গহীন রোগী ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

উপসর্গহীন রোগী ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস গণহারে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি ছড়াচ্ছেন উপসর্গহীন রোগীরা। শরীরে কোভিডের কোনো লক্ষণ না থাকায় সংক্রমিত ব্যক্তি নির্বিঘ্নে যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে নিজের অজান্তেই অন্যকে আক্রান্ত করছেন তারা। এই ধরনের করোনাভাইরাস বাহকরা অন্য ব্যক্তির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষের মধ্যে এই রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা না থাকায় কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ ক্ষেত্রে নজরদারি নেই। ফলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের সুফল মিলছে না। একটি পরিবারের যে ব্যক্তিটি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তার সংস্পর্শে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বাইরের কে মিশেছিলেন প্রথমে তাদের চিহ্নিত করে আলাদা করার কাজটি করা হয়নি গত এক বছরেও। ফলে অবাঁধে প্রাণসংহারী করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘করোনা সংক্রমিত হওয়ার ক্ষেত্রে উপসর্গহীন রোগী সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। সংক্রমিত রোগীর সংস্পর্শে যারা মিশেছেন তাদের সঠিকভাবে আইসোলেশন না করানোর কারণে সংক্রমণ রোধ করা যায়নি। ফলে লকডাউনের সাফল্য মিলেছে আংশিক। পুরোপুরি সাফল্য পেতে হলে আবশ্যই কোনো একজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের সদস্য ও কাছের মানুষ কারা কারা রোগীর সংস্পর্শে গিয়েছিল তাদের বাছাই করে কয়েকদিন পরপর টেস্ট করানো, আইসোলেশনে রাখা এবং কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা জরুরি। এটা হলে সংক্রমণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন রোগী কারা আসছেন তা চিহ্নিত করা যাবে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে উদাসীন। তারা শুধু রুটিন দায়িত্ব পালন করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিছু নিয়মের কারণে দৈনিক সংক্রমণ গড়ে পাঁচ হাজারের মধ্যে থাকছে। এখন দেখেন বিধিনিষেধের মধ্যে শপিং মল খুলে দেওয়া হয়েছে। যে রোগীটির মধ্যে উপসর্গ রয়েছে তার কথাটি বাদ দিলাম। কিন্তু যে ব্যক্তিটি উপসর্গহীন অন্যের জন্য সে খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এই সুযোগে ও নানা অজুহাতে মানুষ কেনাকাটা জন্য বাসার বাইরে যাবে এবং অবাঁধে মেলামেশা করবে। এতে করোনার বিস্তার ঘটবে। এখন পর্যন্ত পরিসংখ্যান বলছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে উপসর্গহীন রোগীর বেশি মৃত্যু হয়েছে।’

আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘কোভিডের ইনকিউবেশনের মেয়াদ ১৪ দিন। তাই অন্তত ১৪ দিন উপসর্গহীন রোগীকে অবশ্যই আইসোলেশনে রাখতে হবে। নাহলে এদের থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বলা যায়, বেশিরভাগ মানুষ উপসর্গহীন বলে টেস্ট করাতে আগ্রহী হয় না। আবার মাস্ক পরা জরুরি কিংবা বাইরে থেকে এসে হাতের কনুই পর্যন্ত সাবান দিয়ে ধোয়া উচিত সেটাও সঠিকভাবে মানা হয় না। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম মানতেও অনীহা আছে।

উপসর্গহীন রোগী যখন কাজের প্রয়োজনে কোনো অফিসে যেতে চাইছেন, তখন টেস্ট ছাড়া তাকে অ্যালাও না করলে তখন বাঁধ্য হয়ে টেস্ট করে জানতে পারছেন তিনি করোনায় আক্রান্ত। দ্বাদশ সংসদ অধিবেশনের আগে অনেক এমপি সংসদ অধিবেশনে যোগদানের ৪৮ ঘণ্টা আগে টেস্ট করে করোনা ধরা পড়ছেন; এর আগে তারা উপসর্গহীন ছিলেন। এবার উপসর্গ ছাড়াই অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা জন্য সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। অন্যথায় বেপরোয়া হওয়ার কারণে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে।’  

বিআলো/শিলি