শিক্ষিকা মাকে বাঁচাতে পিঠে সিলিন্ডার বেঁধে হাসপাতালে

 শিক্ষিকা মাকে বাঁচাতে পিঠে সিলিন্ডার বেঁধে হাসপাতালে

 

ব‌রিশাল প্রতিনিধি :করোনা পজেটিভ মায়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে বাঁচাতে নিজের পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মোটরসাইকেল নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন ছেলে।

শনিবার ব‌রিশাল মে‌ট্রোপ‌লিটন পু‌লি‌শের ট্রা‌ফিক সা‌র্জেন্ট তৌ‌হিদ টুটুল এ সংক্রান্ত ছ‌বি ফেসবু‌কে পোস্ট কর‌লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়। বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে ছবিটি তোলা হয়।

সা‌র্জেন্ট তৌ‌হিদ জানান, শনিবার দুপুরে তার ডিউটি ছিল বরিশাল-পটুয়াখালী সড়কের বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকায়। দুপুর ৩টার দিকে তিনি দেখতে পান মোটরসাইকেলে এক ব্যক্তি এক নারী আরোহীকে নিয়ে যাচ্ছেন। মোটরসাইকেল চালকের পিঠের সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডার বাঁধা। আর আরোহী নারীর মুখে মাস্ক পরানো। সিলিন্ডার থেকে নল দিয়ে নারী আরোহী অক্সিজেন নিচ্ছেন। এ দৃশ্য দেখার পর তিনি মোটরসাইকেলটিকে না থামিয়ে চলে যাওয়ার সঙ্কেত দেন। দৃশ্যটি তিনি তার মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করেন। এরপর দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ছবিটি তিনি ফেসবুকে তার আইডি থেকে পোস্ট করেন।

টুটুল আরও জানান, করোনা নিয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে তিনি ওই ছবি পোস্ট করেছেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়। তার পোস্ট করা ছবিটি অনেকে ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। অনেকে করোনা থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য সেখানে মন্তব্য করেছেন।

তৌহিদ টুটুল বলেন, ‘ছবিটি পোস্ট করার পর পরিচিত-অপরিচিত অনেকে মোটরসাইকেল আরোহী দুজনের পরিচয় জানতে চেয়েছেন। রাতে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন কৃষি ব্যাংকের ঝালকাঠী শাখার কর্মকর্তা জিয়াউল হাসান। পেছনে বসা ছিলেন তার মা রেহানা পারভিন। তারা থাকেন ঝালকাঠী জেলার নলছিটি পৌর শহরে। রেহানা পারভিন নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হন তিনি। শনিবার দুপুরে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় ছেলে জিয়াউল হাসান তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোটরসাইকেলে করে ভর্তির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন।’

ট্রাফিক সার্জেন্ট তৌহিদ মোর্শেদ টুটুলের সূত্র ধরে অসুস্থ রেহানা পারভিনের বোনের ছেলে নাঈম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে তার খালা রেহানা পারভিন সর্দি-জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত হন। করোনা সন্দেহ হলে গত মঙ্গলবার শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের ল্যাবে তার নমুনা পরীক্ষা করার জন্য দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

নাঈম জানান, তার খালা রেহানা পারভিন বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে শনিবার সকাল থেকে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। দুপুরে শ্বাসকষ্ট আরও তীব্র হয়। কিন্তু লকডাউনের কারণে তাকে হাসপাতালে নেয়ার মতো যানবাহন পাওয়া যাচ্ছিল না। আবার কেউ কেউ করোনা রোগী শুনে তাদের গাড়িতে নিতে রাজি হচ্ছিল না।

এ কারণে কোনো উপায় না দেখে পিঠের সঙ্গে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে তাকে মোটরসাইকেলে করে বরিশাল মেডিকেলে নিয়ে যান জিয়াউল।

নাঈম জানান, তার খালা বর্তমানে মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। এখন তার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল।

বিআলো/শিলি