অকারণেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে : জিএম কাদের

অকারণেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে : জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক:জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, অকারণেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। মহামারিকালে অনেক যৌক্তিক কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু এখন কোনো কারণ ছাড়াই প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, পরিবারের খরচ বেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু মানুষের আয় বাড়ছে না। শিক্ষিত অনেক বেকার যুবক কাজ না পেয়ে মাদকে আসক্ত হচ্ছে। কিন্তু কারো যেনো কিছুই করার নেই।


মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে জাপার বনানী কার্যালয়ে কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার নেতা-কর্মীরা নবনিযুক্ত মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিএম কাদের এসব কথা বলেন।
গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামেই আমাদের মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। তখন আমাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করেছে পশ্চিম পাকিস্তান আর এখন আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি দেশের ভেতরে। দেশে সুশাসনের অভাব আছে। তাই ন্যায় ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা তৈরী হচ্ছে না। কিছু মানুষ কোটি কোটি টাকা খরচ করতে বিদেশে যাচ্ছে, দেশের টাকা পাচার করে বিদেশে অট্টালিকা তৈরী করছে। দেশে মাথাপিছু আয় বেড়েছে, কিন্তু দেশের বেশির ভাগ মানুষের পরিবার চালাতে দুঃশ্চিন্তাও বেড়েছে। দুঃশ্চিন্তায় মানুষ ঘুমাতে পারছে না। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। আয়ের চেয়ে ব্যায় কম হলেই মানুষ সংসার চালিয়ে কিছু সঞ্চয় করতে পারবে, বিপদের সময় সেই সঞ্চয় কাজে লাগে। সঞ্চয় তো দূরের কথা এখন দেশের মানুষ ভালোভাবে দিনই চালাতে পারছে না।


তিনি আরো বলেন, নির্বাচন আর আন্দোলনের সময় সবাই গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু, নির্বাচন শেষ হলে গণতন্ত্রের কথা ভুলে যায়। রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বিকৃতির কারণে দেশপ্রেমিক মানুষেরা রাজনীতির মাঠে টিকতে পারছে না। যারা রাজনীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তারা গণমানুষের কথা ভাবেনা। কারণ, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী গণতন্ত্র চর্চা সম্ভব নয়। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি সৎ ও আদর্শবান রাজনীতিবিদদের নিয়ে এগিয়ে যাবে। সত্য ও ন্যায়ের বিজয় একদিন হবেই। এসময় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর রাষ্ট্র পরিচালনায় দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি সুশাসন ভোগ করেছে। তাই দেশের মানুষ আবারো জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়।


এসময় জাতীয় পার্টি মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, প্রতিটি গ্রামে জাতীয় পার্টির কমিটি করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে দলকে আরো সুসংহত করতে হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে শক্তিশালী জাতীয় পার্টি লড়াই করবে। গণমানুষের আস্থা নিয়ে জাতীয় পার্টি দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। আগামী দিনে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে জাতীয় পার্টি।


নব-নিযুক্ত মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, এডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিন্টু, প্রাক্তন সৈনিক পার্টির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, তাড়াইল উপজেলার সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম শাহীন, করিমগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান আসমা বেগম, চান মিয়া।


এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম মিলন, ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াহইয়া চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহজাদা, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য হুমায়ুন খান, সাইফুদ্দিন খালেদ, আনোয়ার হোসেন তোতা, সৈয়দ ইফতেকার আহসান হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, এমএ রাজ্জাক খান, এসএম আল জুবায়ের, গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

 বিআলো/শিলি