করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্টে প্রথম মৃত্যু, আক্রান্ত ৬

করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্টে প্রথম মৃত্যু, আক্রান্ত ৬

নিজস্ব  প্রতিনিধি: এদিকে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম মৃত্যর ঘটনা ঘটেছে। ভারতের চিকিৎসা শেষে দেশ ফিরে কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় মারা যাওয়া দুই ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর একজন করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত ছিলেন।

গতকাল সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিবেশী দেশ ভারতে সংক্রমণের তুঙ্গে থাকা করোনাভাইরাসের ‘ভারতীয় ভেরিয়েন্ট’ গত ০৮ মে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে শনাক্ত হয়েছিল। ভারতফেরত ছয়জনের শরীরে এটি শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল আইইডিসিআর।

বেশ কিছুদিন ধরে সরকার ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট সম্পর্কে সতর্ক করে আসছিল। বলা হচ্ছিল এই ভেরিয়েন্ট দেশে ঢুকলে বিপদ অনেক বেশি হবে। এরই মধ্যে দেশে ঢুকে পড়েছে এই ভেরিয়েন্ট। প্রথমবারের মতো মৃত্যুও ঘটাল। এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আরো বেড়ে গেছে। 

স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গত কয়েক দিনে মানুষ যেভাবে মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে ভিড় করেছে এবং গাদাগাদি করে লাখ লাখ মানুষ গ্রামের বাড়িতে ছুটেছে তাতে এই ভারতীয় ভেরিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়লে শিগগিরই বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে গোটা দেশ।

করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরন মিলেছে ৬ জনের দেহে ভারত থেকে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের নমুনা পরীক্ষা করে এ পর্যন্ত ছয়জনের দেহে করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ভারতীয় ধরনটি পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর।

গত এপ্রিল মাসে ভারত থেকে আসা ২৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ওই ছয়জনের শরীরে ভাইরাসের ওই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টটি শনাক্ত করা হয় বলে রোববার আইইডিসিআর জানিয়েছে। করোনাভাইরাসের এ ধরনটির আনুষ্ঠানিক নাম দেওয়া হয়েছে বি.১.৬১৭। মিউটেশনের কারণে এর তিনটি ‘সাব টাইপ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া গেছে বি.১.৬১৭.২ ধরনটি।

ভারতে প্রথম এ মিউট্যান্ট শনাক্ত হয়েছিল বলে একে ভারতীয় ধরন বলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অন্তত ৪৪টি দেশে করোনাভাইরাসের এ ধরনটি ছড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ধরনটিকে চিহ্নিত করেছে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ (ভিওসি) হিসেবে। নতুন এ ধরনটিই সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতকে বিপর্যস্ত অবস্থায় ফেলে দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ইতোমধ্যে সেখানে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আড়াই কোটির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষের।

২১ এপ্রিল থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ২৫ দিনে প্রতিদিনই তিন লাখের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে বাংলাদেশের প্রতিবেশী এই দেশে। আইইডিসিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশে যাদের শরীরে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টটি পাওয়া গেছে, তারা সবাই ১ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে ভারতের চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হরিয়ানা এবং পশ্চিমবঙ্গে গিয়েছিল চিকিৎসার জন্য।

ওই ছয় জনের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। তাদের বয়স ৭ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে। তারা সবাই এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে ফেরেন। আক্রান্তদের মধ্যে যার মৃত্যু হয়েছে, তিনি ক্যান্সারসহ অন্যান্য জটিল রোগে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।   

বিআলো/শিলি