দুমকিতে পান চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা 

দুমকিতে পান চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা 

মো. জসিম উদ্দিন সুমন, দুমকি (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর দুমকিসহ উপকূলীয় এলাকায় উপযুক্ত পরিবেশ, পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার অভাবে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা। পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় পান চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও দুমকিসহ দক্ষিণের প্রত্যন্ত এলাকায় দিন দিন কমে যাচ্ছে পানের বরজ। 

পান চাষিদের অভিযোগ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়-ক্ষতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি আর্থিক যোগান সংকটের কারনে চাষীরা আগ্রহ হারাচ্ছে। ধার-দেনায় গড়ে তোলা পানের বরজ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পথে বসতে হচ্ছে চাষিদের। চাষিরা বলছেন, প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহায়তা পেলে সম্ভাবনাময় পান চাষে আগ্রহী হবেন তারা।  

উপজেলার পান চাষিরা জানান, কৃষি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা না থাকায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। এছাড়া উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও প্রকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদেরকে সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় সু-স্বাদু পান চাষে অনীহা প্রকাশ করছেন চাষিরা। উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ও আঙ্গারিয়া এবং মুরাদিয়া ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক পরিবার বর্তমানে পান চাষে জড়িত রয়েছে। এ পান স্থানীয়দের কাছে খুবই প্রিয়। জাতীয় অর্থনীতিতেও রাখতে পারে ভূমিকা। এক সময় প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে  পানের বরজ থাকলেও এখন তা অনেকটা কমে এসেছে। পূর্ব পুরুষের পেশা হিসেবে এখনো যারা পানের বরজ নিয়ে আছেন তারা জানান, পান চাষের জন্য সরকারি কোন সাহায্য সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে যে কোন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকার তাদের সহায়তা করে কিন্তু পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে চাষীদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না। জানা গেছে, বহু আগ থেকে দুমকিতে কিছু পান চাষি স্থানীয়ভাবে পান চাষ করে ব্যাপক সাফল্য লাভ করেন। পরে পাঙ্গাশিয়া, আঙ্গারিয়া, মুরাদিয়া, লেবুখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মাঝে পান চাষে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। পর্যায়ক্রমে ওই এলাকার চাষিরা পান চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং সফলতার মুখও দেখেন। বর্তমানে চাষিরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ না থাকায় পান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

আংগারিয়া ইউনিয়নের জলিশা গ্রামের পান চাষিরা হরিপদ চান হাওলাদার জানান, রোগবালাই পান উৎপাদনের একটি প্রধান অন্তরায়। পানে গোড়া পচা, ঢলে পড়া, পাতা পঁচা, অ্যানথ্যাকনোজ ও সাদা গুঁড়া ইত্যাদি রোগ দেখা যায়। এর মধ্যে পচন ধরা পানের জন্য একটি মারাত্মক রোগ। গাছের যে কোনো বয়সে এ রোগ হতে পারে। পানের বরজে সাধারণত কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে এ রোগের প্রকোপ মহামারী আকারে দেখা দেয়। 

পান চাষি নিরঞ্জণ মন্ডল জানান, পানের বরজ তৈরি করে লতা লাগিয়ে ভাল ফলন পেলেও সার কীটনাশক ব্যবহারে পানের রোগ ঠেকাতে পারছেন না তারা। রোগবালাই কিংবা সমস্যা দেখা দিলে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা কিংবা ওষুধ বিক্রেতাদের সাথে পরামর্শ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তখন কৃষি বিভাগ থেকে কোন পরামর্শ পায়না চাষিরা। তাই পানের বরজ বাদ দিয়ে অন্য ফসল ফলানোর দিকে ঝুকেঁ পড়ছে পান চাষিরা। স্থানীয় চাষি অরুনী রানী জানান, সরকার কৃষকদের জন্য সারা দেশে বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ করলেও দুমকিতে পান চাষীদের কপালে সার-বীজ ও এক বোতল কীটনাশকও জোটেনা। অঙ্গারিয়া  ইউনিয়নে একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকলেও কোনো দিন তাকে পানের ক্ষেতে দেখা পাইনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহের মালিকা জানান, পান চাষের উপর কৃষি বিভাগের কোন কার্যক্রম নেই। তবে চাষিদেরকে আমরা বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে থাকি। এছাড়াও চাষিদের মধ্যে পান চাষে অগ্রহ ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করবো।