বন্যায় আটকে পড়াদের প্রাণ বাঁচানোর অগ্রনায়ক তারা

বন্যায় আটকে পড়াদের প্রাণ বাঁচানোর অগ্রনায়ক তারা

শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরে বন্যাদুর্গত এলাকায় আটকে পড়ে মানুষদের উদ্ধারে যারা কাজ করেছেন তাদের অগ্রগণ্য, তরুণ স্বেচ্ছাসেবী সোহান। শুধু সোহান নয়, তার সাথে আশিক, ফিরোজ, আবির, রুবেল ও স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাদাতের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় শিশুসহ প্রায় অর্ধশত গ্রামবাসীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

বুধবার (২২ জুন) দুপুরে স্বেচ্ছাসেবী সোহানের সাথে কথা হয় বিবার্তা প্রতিবেদকের। তিনি তার সহযোদ্ধা স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়ার ঘটনা বর্ণনা করেন।

সোহান জানান, শুক্রবার (১৭ জুন) বিকালে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানিতে আটকে পড়া ৬ পরিবারের মোট ২৬ জনকে উদ্ধার করেছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ওই দিন আমি গিয়ে দেখি স্কাউট সদস্য আশিক তার টিম নিয়ে রাস্তায় কাজ করছে, ফায়ার সার্ভিস তাদের মত করে কাজ চালাচ্ছে। আমাদের জাহিদুল হক মনির ভাই (স্থানীয় ইউপি সদস্য) সেদিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছেন। মহারশি নদীর ভাঙনের সম্মুখের এক বাড়িতে গর্ভবতী মহিলা, শিশুসহ ১৭ থেকে ১৮ জন মানুষ আটকা পড়ছে। সবাই বলতেছিল, যেকোনো সময় পানির স্রোতে ওই বাড়িটা ভেসে যেতে পারে। বাড়িটা ভেসে গেলে মারা যেতে পারে অনেকেই। পরে আমরা কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী ওই বাড়িতে যাওয়ার জন্য ফায়ার সার্ভিসের লাইফ জ্যাকেট পড়ে, পানিতে নামি। কিছু দূর যাওয়ার পর দেখি, ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য লাইফ জ্যাকেট ছাড়া ওই বাড়িতে যাচ্ছে। পরে আমি আমার নিজের লাইফ জ্যাকেট খুলে, ওই সদস্যকে দেই। এরপরেও আমি খালি গায়েই পানির স্রোত অতিক্রম করে অনেক চেষ্টার পর ওই বাড়িতে পৌঁছি।

তিনি আরো বলেন, ওই বাড়িতে গিয়ে ১২ জন লোক ছিলো। পরে চেয়ারম্যান শাহাদাৎ ভাইয়ের ব্যবস্থা করা নৌকায় আমরা এক ঘণ্টা চেষ্টা করে ওই বাড়িতে নিয়ে যাই। পরে নৌকা দিয়ে একজন গর্ভবতী মহিলা উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাই। তার পর আমাদের কাছে সাত-আটটা লাইফ জ্যাকেট ছিলো। লাইফ জ্যাকেট পরায়ে তাদের সাঁতরাইয়ে পার করি আমরা। পরে বাকিদের নৌকা দিয়ে পার করি। যেকোনো মানুষের বিপদে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুরোধ করেন তিনি।

শুধু সোহান নয়। ওইদিন পাহাড়ি ঢলের সৃষ্ট বন্যার পানিতে আটকেপড়া ছয়টি পরিবারের ২৬ জনকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে সোহানের মত আশিক, ফিরোজ, হাফিজুর, আবির, রুবেলসহ আরো সাত আটজন স্বেচ্ছাসেবী।

খৈলকুড়া গ্রামের আক্কেল আলী বলেন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা আমার নাতনীসহ পরিবারের সবাইকে উদ্ধারে যে ভুমিকা রেখেছে তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। দোয়া করি আল্লাহতাদের দীর্ঘজীবি করুক।

ঝিনাইগাতী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্য মান্নান বলেন, ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় আটকে পরিবারগুলোকে জনপ্রতিনিধিসহ স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরানোর কাজ করেছি। আমাদের কাজে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহাদৎ হোসেন, সদস্য মো. জাহিদুল হক মনির সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা যে কাজ করেছে, তাতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তারা।

সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সহকারী পরিচালক মো. নাঈম ইসলাম বলেন, কিছু কাজ আছে, যা নিজের বিবেকের তাড়নায় করতে হয়। সেগুলো জীবনে প্রশান্তি এনে দেয়, তা আরো নতুন করে ভালো কিছু কাজের উৎসাগ যোগায়। বন্যায় আটকেপড়াদের উদ্ধারে অংশগ্রহণকারী সকল স্বেচ্ছাসেবীদের স্যালুট জানাই।

বিআলো/শিলি