বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: দেশের প্রথম এবং সকল ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে অবস্থানকারী আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) মহান বিজয় দিবস ২০২১ উপলক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

১৬ই ডিসেম্বর ২০২১ 'মহান বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী'। ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ডাকে সাড়া দিয়ে এদেশের সকল স্তরের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সুদীর্ঘ নয় মাস বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে, ছিনিয়ে আনে এদেশের বিজয়। বাঙালি জাতি পায় একটি পতাকা ও স্বাধীন ভূখন্ড। মুক্তির এ লড়াইয়ে আমাদের বিজয়ের পেছনে ছিল সম্মুখযুদ্ধে বহু মুক্তিযোদ্ধার সাহসিকতাপূর্ণ অংশগ্রহণ। তাই রাষ্ট্রও সেই সোনার সন্তানদের বরণ করে নিয়েছিল বীরত্বসূচক খেতাব দিয়ে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ছাড়া এ দেশ কখনো স্বাধীন হতো না, তাঁদের অনেকেই এখনো রয়ে গেছেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। তাঁদের অনেকেরই পরিচয় আমাদের অজ্ঞাত, বীরত্বগাথা অজানা। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি।

টিভি উপস্থাপক এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ অফিস এর পরিচালক জামিল আহমেদ এর সঞ্চালনায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, বেনজীর আহমেদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য তানভীর হারুন।

আজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্ম না হলে বাংলাদেশ নামের এই স্বাধীন দেশ এর জন্ম হত না। আমাদের দেশ পরিচালনার জন্য যে সব দিক নির্দেশনা প্রয়োজন তাঁর সবই তিনি দিয়ে গিয়েছেন। আমাদের মাঝে উপস্থিত আছেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা যারা দেশ স্বাধীন করার জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং ছিনিয়ে এনেছিলেন এদেশের স্বাধীনতা। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এখানে সমবেত হতে দেখে আমার মন আনন্দে ভরে উঠেছে। আমরা একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাতে এ পর্যন্ত ১৩৯৯ জন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে বিনা বেতনে পড়াশোনা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। টাকার অঙ্কে এই বৃত্তির পরিমাণ প্রায় ১২০ কোটি। প্রতি বছরের মত এবছরও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান এর আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত আমি আজকের অনুষ্ঠানে যে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত হয়েছেন তাঁদেরকে ধন্যবাদ ও গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।  

বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধুই এদেশের স্বাধীনতার রুপকার। তিনি ছিলেন এদেশের অসহায় নির্যাতিত মানুষের ভাগ্য উন্মোচনের ত্রাণকর্তা। আমি জাতির পিতা এবং তার পরিবারের সকল নিহত সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রতিবছর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মান জানিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে,  উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা। আমরা গর্বিত নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে এত বেশিসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাদের শিক্ষার্থী আভিবাবক হিসেবে আমাদের মাঝে সব সময় পাশে পেয়ে এবং জাতির এই বীর সন্তানদের সম্মান জানাতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে পেরে।

অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ, আমরা এখানে নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে জানাতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে এ দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজী রেখে এ দেশ স্বাধীন করেছিল। জাতির সেই বীর সন্তান্দের ঋণ আমরা কখনও শোধ করতে পারবনা। এত বেশি সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাদের আমাদের মাঝে এক সাথে পেয়ে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। ১৯৭১ এর সব শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এম. ইসমাইল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ, অধ্যাপক এবিএম রাশেদুল হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক, বিভাগীয় প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, গবেষক ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ সহ আরও অনেকে।

এনএসইউ সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সিনে অ্যান্ড ড্রামা ক্লাব এর আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।