শনিবার থেকে বাস-ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী, লঞ্চের সিদ্ধান্ত হয়নি

শনিবার থেকে বাস-ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী, লঞ্চের সিদ্ধান্ত হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক:আবার ঊর্ধ্বমুখী করোনার সংক্রমণ রোধে আগামী শনিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে আন্তঃনগর ট্রেন ও বাস চলবে। তবে লঞ্চে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

দেশে করোনার করোনার সংক্রমণ ও করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন রোধে সরকারিভাবে দেয়া ১১ দফা বিধিনিষেধ আজ বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হচ্ছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সবাইকে এসব বিধিনিষেধ বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হবে। এর ব্যত্যয় হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। গত সোমবার ১১ দফা বিধিনিষেধের ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের লাইন ডিরেক্টর (অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন জানান, সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ঢাকা ও রাঙ্গামাটি জেলাকে সংক্রমণের রেড জোন অর্থাৎ উচ্চঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। হলুদ জোন বা মধ্যম ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে ৬ জেলা। বাকি ৫৪টি জেলা কম ঝুঁকি অর্থাৎ সবুজ জোনে রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে গত এক সপ্তাহে শনাক্তের হার দ্বিগুণ হয়েছে। ৫ জানুয়ারি শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ২০ শতাংশ। সেখানে ১১ জানুয়ারি তা বেড়ে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসর্গ দেখা দেয়ার পর করোনা পরীক্ষা করা জরুরি হলেও অনেকেই তা করাচ্ছেন না। পরীক্ষার সংখ্যা বেশি হলে রোগীর সংখ্যা ও সংক্রমণের হার আরো অনেক বেশি হতো।

বাস: শতভাগ সিটে যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর দাবি জানিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান ভাড়াতেই তারা গাড়ি চালাবে। কিন্তু অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে তাদের গাড়ি চালাতে বাধ্য করলে যাত্রীদের কাছ থেকে ৬০ ভাগ বেশি ভাড়া আদায় করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা অতিরিক্ত এ ভাড়া আদায় করবে। বুধবার বিআরটিএ ভবনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিবহন মালিক নেতাদের বৈঠকে এমন আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেছেন, আগামী ১৫ জানুয়ারি শনিবার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক আসন খালি রেখে যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি জোরদার করতে সভায় সব ধরনের আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতি ও শুক্রবার বর্তমান নিয়মেই গণপরিবহন চলবে। শনিবার থেকে দেখেশুনে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী বাস চালাতে চান তারা।

ট্রেন: শনিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকেই ১০৪টি আন্তঃনগর ট্রেন অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলবে। এজন্য বুধবার বিকাল থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ। এদিকে ২৫৪ যাত্রীবাহী মেইল, কমিউটার ও লোকাল ট্রেন কীভাবে চলবে, এ বিষয়ে আজ-কালের মধ্যেই সিদ্ধান্ত হবে। এসব ট্রেনও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলবে-এমন সিদ্ধান্ত দ্রুততময়ের মধ্যেই আসতে পারে বলে জানা গেছে।

রেলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, সরকার যাত্রীর সুরক্ষার কথা মাথায় নিয়ে লোকসান দিয়ে ট্রেন চালাবে। সেখানে যাত্রীরা যদি মাস্ক না পরে, সামাজিক দূরত্ব রক্ষা না করে, তবে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হবে কঠোর হতে। সেক্ষেত্রে যাত্রীদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়া হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

লঞ্চ: লঞ্চে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও তা কার্যকরে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এমনকি সরকারি নির্দেশনার কোনো কপিও পাননি লঞ্চ মালিকরা। তারা বলেছেন, কীভাবে সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায় তা নিয়ে আলোচনার জন্য বিআইডাব্লিউটিএ তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। তাই এখন যেভাবে যাত্রী পরিবহন হচ্ছে তেমন করেই তারা লঞ্চ চালাবেন। তবে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনে তাদের বাধ্য করা হলে ডেকের যাত্রীদের কাছ থেকে শতকরা ৬০ টাকা বাড়িয়ে ভাড়া আদায় করা হবে। তবে কেবিনের ভাড়া বাড়বে না।

লঞ্চ মালিক সমিতির প্রেসিডেন্ট শহীদুল হক ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, গত দুই বছর ধরে নৌযান চলাচলের কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিআইডাব্লিউটিএ আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করে না। ওনারা যা খুশি তাই করছে। এটা এক ধরনের জুলুম। এর খেসারত দিচ্ছেন যাত্রীরা।

বিআলো/শিলি