শিশুকে জন্মের পর প্রথম ৬ মাস অবশ্যই বুকের দুধ দিতে হবে

শিশুকে জন্মের পর প্রথম ৬ মাস অবশ্যই বুকের দুধ দিতে হবে

***চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মশালায় বক্তারা

রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম: জন্ম গ্রহণের পরে পরিপূর্ণ সুস্থ সবল শিশুর জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে মায়ের শাল দুধই শিশুর প্রথম টিকা ও খাবার। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সংক্রামক থেকে শিশুকে দ্রুত রক্ষা করে। শিশুকে সম্পূর্ণ সুস্থ রাখতে হলে জন্মের প্রথম ৬ মাস অবশ্যই বুকের দুধ দিতে হবে। আর কিছুই দেওয়া যাবেনা। এরপর দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি ঘরে তৈরি শিশুর উপযোগী তরল সুষম ও পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। বুকের দুধের পরির্বতে বিকল্প হিসেবে গুঁড়ো দুধ খাওয়ালে শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগে ও বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত মাতৃদুগ্ধ বিকল্প, শিশু খাদ্য, বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত শিশুর বাড়তি খাদ্য  ও উহা ব্যবহারের সরঞ্জামাদি (বিপণন নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ ও বিধি ২০১৭ এবং পুষ্টিখাতের অর্জন বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের বাস্তবায়নে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় কর্মশালার আয়োজন করেন। বক্তারা বলেন, সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর খুব দ্রুত শাল দুধ খাওয়ালে মায়ের রক্তক্ষরণ কম হয় ও গর্ভফুল পড়তে সাহায্য করে। ফলে মা রক্তস্বল্পতা থেকে রক্ষা পায়। দেশি-বিদেশি কিছু অসাধু কোম্পানি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে শিশুদের জন্য মায়ের দুধের পরিবর্তে গুঁড়ো দুধের প্রচার প্রচারণা চালায়। তারা একশ্রেণির ডাক্তারদের চুক্তিতে শিশুদের জন্য মায়ের বিকল্প হিসেবে ব্যবস্থাপত্রে গুঁড়ো দুধ লেখানোর জন্য বাধ্য করে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বির সভাপতিত্বে ও জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহাখালীস্থ জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমের  জাতীয় পুষ্টিখাতের অর্জন বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদের পরিচালক ডা. তাহেরুল ইসলাম ও মাতৃদুগ্ধ বিকল্প আইন ২০১৩ ও বিধি ২০১৭ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শোয়াইব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আসিফ খান।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মাসুম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারজান হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হায়দার হেনরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উ-পরিচালক মো. সেলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মাহমুদা আক্তার, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম, ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. নাবীল চৌধুরী, বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. জিল্লুর রহমান, সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. আবদুল মজিদ ওসমানী, লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ, চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরী, হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা এএসএম ইমতিয়াজ হোসাইন, সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মো. নুর উদ্দিন, বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মো. শাফিউর রহমান মজুমদার, রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা মো. নুর আলম দ্বীন, আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা আবু জাহিদ মো. শরফুদ্দিন, মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা শব্যসাচী নাথ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসআইএমও ডা. এফ এম জাহিদ, সাংবাদিক রনজিত কুমার শীল, অ্যাডভোকেট সেলিম চৌধুরী, ডা. রুমি দাশ, ডা. রুমানা রশিদ, ডা. ফারিয়া সিলভী, ডা. নারগীস আক্তার সিদ্দিকী, ডা. ফাহিমা আফরিন প্রমুখ। 

বিআলো/ইলিয়াস